শিল্প-সাহিত্যে সমৃদ্ধ আর ঐতিহ্যের এক সুবিশাল ভাণ্ডার নিয়ে পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস। প্যারিসের বুকে থাকা আইফেল টাওয়ারও যেন দুনিয়াকে তাই জানান দেয়। চোখ ধাঁধানো আর হাজার বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যমন্ডিত এই শহর যেন অর্ধেক বাস্তব আর অর্ধেক কল্পনা মিশ্রিত। ইতিহাস-চেতনা, সৌন্দর্যবোধ, শিল্প-সাহিত্য আর জীবনদর্শন যেন প্যারিসের গলি-ঘুপচিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। আর তাই ইউরোপের কথা মনে আসলেই প্যারিস শহরের কথাও মনে আসবে। আর তাই হয়তো মানুষ বলে – স্বপ্নের এক শহরের নাম প্যারিস।
প্যারিস ফ্রান্সের সবচেয়ে বৃহত্তম আর রাজধানী শহর। উত্তর ফ্রান্সের ইল-দ্য-ফ্রঁস অঞ্চলের প্রাণকেন্দ্রে সেন নদীর তীরে অবস্থিত। এই ইল-দ্য-ফ্রঁস বা প্যারিস বেসিন আসলে চারিদিক থেকে ঘেরা সমৃদ্ধ এক কৃষি অঞ্চল। এখন অবধি ফ্রান্সের বাণিজ্য এবং সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে প্যারিস প্রতিষ্ঠিত। এছাড়াও, ইউরোপের অন্যতম সেরা বাণ্যিজিক নগরী হিসেবেও খ্যাত প্যারিস। দেশের সকল বড় বড় প্রতিষ্ঠান ছাড়াও বিশ্বের অনেক বড় সংস্থা এবং প্রতিষ্ঠানেরই সদরদপ্তর এই প্যারিসে অবস্থিত। ১০৫ বর্গ কিলোমিটারের শহুরে অঞ্চল এবং ২,৩০০ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে রাজধানী সংক্রান্ত অঞ্চল নিয়ে প্যারিসের অবস্থান। ঐতিহাসিক এই শহরে প্রায় ২২ লাখ ফরাসী এবং প্রবাসীদের সম্মিলিত ঘনবসতি রয়েছে।
প্যারিস আসলো কোথা থেকে? সেই শুরু থেকেই কি প্যারিস ছিল? ইতিহাস বলে, প্রায় দুই হাজার বছরেরও বেশী প্রাচীন এই নগরী। শতাব্দীর পর শতাব্দী এই এলাকা জনবসতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ছিল। ইতিহাসের অনেক বীর যোদ্ধা, রাজা-মহারাজাসহ অনেক মহীরথীদের আদিভূমি ছিল এই প্যারিস। প্যারিস শহরের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাসের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিয়েই আজকের আয়োজন।
বর্তমানের প্যারিস শহরে সর্বপ্রথম ঘনবসতির প্রমাণ পাওয়া যায় ৭৬০০ খ্রিষ্টপূর্বে। তবে, খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীর শেষের দিকে ল’এল দেলা সিটা এবং সেন নদীর উর্বর তীরভূমির আশেপাশের অঞ্চল জুড়ে জনবসতি গড়ে উঠেছিল বলে জানা যায়। কেল্টিকদের মতান্তরে গ্যালিকদের একটা ছোট্ট উপজাতি এখানে এসে নিজেদের আবাসস্থল বানিয়েছিল। পেশায় তারা ছিল মৎস্যজীবী। গোত্র অনুসারে তাদের নাম ছিল পারসিয়া। পারসিয়ারা আবার বেলজিক উপজাতিদের অন্তর্ভূক্ত; যারা আবার জার্মান গোত্রের বংশোদ্ভূত। এই পারসিয়াদের উপনিবেশকে লুটেশিয়া নামেও অভিহিত করা হতো।
রোমানরা যখন এই অঞ্চলে পা রেখেছিল ততদিনে পারসিয়ারা অনেক সংগঠিত আর ধনী জাতিতে পরিণত হয়েছিল। এমনকি তাদের তৈরি নিজস্ব স্বর্ণমুদ্রাও ছিল। জুলিয়াস সিজার তার গ্রন্থ কমেন্টারিতে এই পারসিয়াদের সম্পর্কে লিখেছিলেন, এই পারসিয়াদের আত্মসম্মানবোধ এতটাই ছিল যে তারা রোমানদের কাছে পরাজয় স্বীকার করার চাইতে নিজেদের বাড়িঘর আর দুর্গগুলোকে আগুনে পুড়ে দেয়াটাকেই সমীচীন বলে মনে করেছিল। খ্রিষ্টপূর্ব প্রথম শতাব্দী থেকে লুটেশিয়া রোমান শহর হিসেবে বেড়ে উঠে এবং সেন নদীর বাম তীরে জনবসতি বিস্তার করতে শুরু করে। এই জন্যই এই অঞ্চলের বেশীরভাগ স্থাপত্যশৈলীতেই রোমানদের ছাঁচ বেশ ভালোভাবেই প্রত্যক্ষ করা যায়।
খ্রিষ্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীর শুরু থেকেই বারবার ভিন্ন জাতির আক্রমণের শিকার হয় লুটেশিয়া। এরই সুবাদে নদীর বাম দিকের শহরটি ধ্বংস হয়ে যায় খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে। সেখানরা বাসিন্দারা বাধ্য হয় দ্বীপে আশ্রয় নিতে আর সেখানেই তারা জনবসতি গড়তে শুরু করে। সেই দ্বীপের চারপাশে তাদের সুরক্ষার জন্যে একটা ঘন প্রাচীর গড়ে তোলা হয়। পরবর্তীতে জুলিয়াস সিজারের অধীনে চতুর্থ শতাব্দীর দিকে লুটেশিয়া পারসিয়া জাতির নামানুসারে পারসি নামকরণ পায়; যা কালের বিবর্তনে প্যারিস রূপলাভ করে।
মূলত খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দী থেকেই এই জায়গার নাম প্যারিস হয়েছে বলে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়। তখন প্যারিস জুড়ে খ্রিষ্টান ধর্ম প্রসিদ্ধি লাভ করে এবং গীর্জা নির্মাণ শুরু হয়। এই সময়কালে আটিলা দ্য হান এবং তার সেনাবাহিনী কর্তৃক বেশ কয়েকবার হুমকি পায় এই শহর। জনশ্রুতি আছে যে, সেইন্ট জেনেভির দূরদর্শিতা সম্পন্ন হস্তক্ষেপের কারণে উক্ত আক্রমণগুলো প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছিল।
৫ম শতাব্দীর শেষ দিকে সালিয়ান ফ্রাঙ্কসের প্রথম রাজা ক্লোভিস গলদের কাছ থেকে প্যারিস ছিনিয়ে নেয় এবং তাদের সাম্রাজ্যের রাজধানী নির্বাচিত করে প্যারিসকে। ৫৮৪ সাল অবধি চিল্পেরিকের রাজত্বের শেষকাল অবধি প্যারিস রাজধানীর সম্মান পেলেও, পরবর্তীতে মেরোভিনজিয়ানসা রাজধানীর মুকুট অন্যত্র সরিয়ে নেয়। তবে ৯৮৭ খ্রিস্টাব্দে হিউ ক্যাপেটের সিংহাসন নির্বাচিত হওয়ার পরে ক্যাপেটিয়ান রাজধানী হিসেবে প্যারিস আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে।
ফিলিপ দ্বিতীয় এর রাজত্বকালে ১২০০ খ্রিস্টাব্দে প্যারিসের ব্যাপক উন্নতি হয়। রাস্তাগুলোকে প্রশস্ত করা হয়, শহরের প্রাচীর বর্ধিত করা হয় এবং প্যারিসের সার্বিক উন্নতি সাধন করা হয়। চৌদ্দ শতকের শুরুটা ব্ল্যাক ডেথ মানে প্লেগের মহামারী দিয়ে শুরু হলেও পরপর তিনটা বিদ্রোহের সূচনা হয় – প্রথমটা ১৩৫৮ সালে বণিকদের; ১৩৮২ সালে করের জন্যে মাইলোট বিদ্রোহ এবং ১৪১৩ সালে ক্যাবোচিয়ান বিদ্রোহ। এই বিদ্রোহগুলো শতবর্ষী যুদ্ধের অংশ বলেও গণ্য করা হয়।
শতবর্ষী যুদ্ধে প্যারিসের অনেক ক্ষতি হয় এবং জোয়ান অব আর্ক ইংরেজদের হাত থেকে প্যারিসকে মুক্ত করতে ব্যর্থ হয়। রাজা ফ্রান্সিসের সময়কালে ব্রিটিশদের থেকে মুক্ত হয়ে প্যারিসের আরো উন্নয়ন হয়। পশ্চিমা ইউরোপের সবচেয়ে বৃহৎ শহরে পরিণত হয় প্যারিস। পঞ্চদশ শতাব্দী থেকে ফ্রান্সেও রেনেসাঁর ছোঁয়া লাগে। নগর আবারো নতুন রূপে সাজতে থাকে আর নতুন চিন্তাধারায় গড়তে থাকে দেশ। এরই ধারাবাহিকতায় ফরাসী বিপ্লবের সূত্রপাত ঘটে।
পরবর্তীতে নেপোলিয়ন বেনোপোর্ট ফ্রান্সের অধিনায়ক হিসেবে ক্ষমতায় এসে প্যারিসের চাকচিক্য আরো বাড়ায়। নেপোলিয়ন যাওয়ার পরও প্যারিসে বেশ ক’বছর দারুণ অরাজকতা বিরাজমান ছিল। আঠারো শতকের শেষের দিকে ফ্রান্সে আইফেল টাওয়ারের কাজ শুরু হলে বিশ্বের বুকে ফ্রান্স তথা প্যারিস শহরের একটা প্রতীক স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠা পায়।
প্রথম আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্যারিসের তেমন একটা ক্ষতি হয়নি। যদিও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্যারিস জার্মানদের অধীনে ছিল যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে। বিংশ শতাব্দীতে এসে বিশ্ব যত আধুনিকতার ছোঁয়ায় পূর্ণ হতে থাকলো প্যারিসও যেন ততটাই সমৃদ্ধ হতে থাকলো। শিল্প সাহিত্য থেকে শুরু করে জ্ঞান আর ঐশ্বর্যে পরিপূর্ণতা লাভ করলো প্যারিস। আর ধীরে ধীরে ইউরোপের অন্যতম সেরা শহরই নয় বরং বিশ্বের এক গুরুত্বপূর্ণ শহরের তালিকায় প্যারিসের নাম উঠে এলো।
ফরাসী ভাষাকে বলা হয় ভালোবাসার ভাষা আর প্যারিসকে বলা হয় ভালোবাসার শহর। সেন নদী প্যারিসকে ভালোবেসে যেমন আষ্টেপৃষ্ঠে পুরো শহর জুড়ে ছড়িয়ে আছে; একইভাবে শৈল্পিক সব স্থাপত্যশৈলী এই নদীর উপরেই প্রায় ৩৭ টি ব্রীজ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এই ব্রীজগুলোর উপর দিয়ে হাঁটতে গেলেই যে কেউ টের পাবে ব্রীজের রেলিংগুলোতে এক ধরণের বিশেষ তালা ঝুলে আছে। এগুলোকে “লাভ প্যাডলক” বলে অভিহিত করা হয়।
প্রেমিক কিংবা প্রেমিকা যে কোনো একজন অন্যজনের নামের আদ্যক্ষর দেয়া একটি তালা ব্রীজের রেলিংয়ে বেঁধে রাখেন এবং চাবিটি ফেলে দেন সেন নদীতে। চাবি হারিয়ে যাওয়ার ফলে তালা কখনো খুলে যায় না; ঠিক তেমনি প্রেমিক-প্রেমিকার বন্ধনও যেন জনম জনম বন্ধনেই বাঁধা থাকে। এমনটাই প্রত্যাশা করে বাঁধা হয় এই তালাগুলো। প্রেমিক-প্রেমিকার ভালোবাসার এমন নিদর্শনের কারণেই প্যারিস ভালোবাসার শহর হিসেবে খ্যাতি পেয়েছে।
ইংরেজিতে প্যারিস নামে পরিচিত এই শহরটি ইউরোপ জুড়ে পারি নামেই পরিচিত। এই পারিকে সিটি অফ লাইটস বা আলোকিত শহর বলেও অভিহিত করা হয়। কাগজে কলমেও প্যারিসের নাম “লা ভিল্লা ল্যুমিয়ের” নামে খ্যাত। ইউরোপের প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয় প্যারিস ইউনিভার্সিটি (লা সোরবোন্নে) এর জন্য ইউরোপের অন্যতম জ্ঞান-বিজ্ঞানের তীর্থভূমি ছিল এই প্যারিস।
আর জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হয়েই ইউরোপের প্রথম শহর হিসেবে প্যারিসের রাস্তায় রাস্তায়ই প্রথম গ্যাস চালিত ল্যাম্পপোস্ট স্থাপিত হয়। সন্ধ্যার গাঢ় অন্ধকারে যখন পুরো ইউরোপ তলিয়ে যেত তখন প্যারিস স্বমহিমায় আলো ঝলমলে এক রূপ নিয়ে সবাইকে চমকে দিতো। আর তাই তো সিটি অফ লাইটস বা আলোকিত শহর নামে এখনও পরিচিত প্যারিস।
শান্তির শহর প্যারিস। হ্যাঁ, প্যারিসকে আপাদমস্তক শান্তির শহর বলে মান্য করে ইউরোপবাসীরা। কেননা, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল এই প্যারিসেই। যেটিকে “প্যারিস পিস কনফারেন্স” বলা হয়ে থাকে এবং এই সম্মেলনেই স্বাক্ষরিত হয়েছিল ঐতিহাসিক এবং গুরুত্বপূর্ণ “ভার্সাই চুক্তি”। আরো জানার বিষয় হচ্ছে এই সম্মেলন থেকেই “লীগ অফ নেশনস” এর ধারণাও প্রবর্তিত হয়েছিল। মূলত এই কারণেই শান্তির শহর বলা হয়ে থাকে প্যারিসকে। এছাড়াও, প্যারিসের এই সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে বদ্ধ পরিকর ফরাসী পুলিশ। অত্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে পুলিশ, প্যারিসের নাগরিক এবং পর্যটকদের জন্যে।
ফ্যাশন, স্টাইল আর আভিজাত্যের শহর প্যারিস। আধুনিক ফ্যাশনের রাজধানীও বলা হয় প্যারিসকে। ১৮০০ শতকের শুরু থেকেই সৌন্দর্য আর ফ্যাশন সচেতনতার মিলনমেলা হিসেবে খ্যাত প্যারিস। “প্যারিস ফ্যাশন উইক” এর নাম কে না শুনেছে? পৃথিবীর বিখ্যাত সব ফ্যাশন ডিজাইনার এবং ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোর ঘাঁটি এই শহর। এছাড়াও, পুরো বিশ্ব জুড়ে ফ্রান্সের পারফিউমের কদর আছে। আর বিশ্বখ্যাত সব নামীদামী পারফিউমের আস্তানা এই প্যারিস।
১৮৮৯ সালে গুস্তাভ আইফেল বিশ্বমেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে নির্মাণ করেন এই টাওয়ার। তখনকার সময়ে ব্যাপক সমালোচনার স্বীকার হয় টাওয়ারটি। এমনকি এটি সরিয়ে ফেলতে প্যারিসের রাস্তায়ও নেমেছিল একদল। কিন্তু উনবিংশ শতাব্দী থেকেই প্যারিস তথা ফ্রান্সের প্রতীকে পরিণত হয় আইফেল টাওয়ার। ফ্রান্সে ঘুরতে গিয়ে আইফেল টাওয়ার না দেখা ফ্রান্সে না যাওয়ারই সমতুল্য বলে মনে করেন অনেকেই। প্রতি বছর গড়পড়তা প্রায় ৭০ লাখ মানে ৭ মিলিয়ন পর্যটক কেবল প্যারিসের এই দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্য দেখতে আসে। ১৮ হাজার ৩৮টি লোহার টুকরার সমন্বয়ে তৈরি এই স্থাপত্যশৈলী বর্তমানে প্যারিস তথা ফ্রান্সের প্রতীক বলে বিশ্বব্যাপী মর্যাদা পেয়েছে।
পুরো প্যারিস জুড়ে মোট ১৭৩টি মিউজিয়াম আছে। আর তাই মিউজিয়ামের শহর নামেও বিশেষ খ্যাতি আছে প্যারিসের। বিশ্বখ্যাত ল্যুভর মিউজিয়ামের কথা কে না শুনেছে? লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি এর অমর কীর্তি “মোনালিসা” সংরক্ষিত আছে এই মিউজিয়ামেই। ৩,৮০,০০০ এর বেশী দর্শনীয় বস্তু আছে এই ল্যুভর মিউজিয়ামে। ১৫ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত এই জাদুঘরে যদি আপনি ৫ সেকেন্ড করে সময় নেন প্রতিটা দর্শনীয় বস্তু দেখতে তাতে আপনার ১০০ দিন লেগে যাবে পুরো জাদুঘর একনজর ঘুরে দেখতে।
প্যারিসের প্রতীক আইফেল টাওয়ার, রূপকথার মোনালিসা খ্যাত ল্যুভর মিউজিয়াম, ফরাসি স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন নটরডেম ক্যাথেড্রাল, নেপোলিয়নের বিজয়োল্লাস তোরণ আর্ক ডে ট্র্যেম্ফে; ফরাসি নিদর্শন পর্যটকদের এতটাই আকৃষ্ট করে যে, ফ্রান্স পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পর্যটক পরিদর্শনকারী দেশ এবং শহর হিসেবে প্যারিসকে পরিগণিত করা হয়। ইউনেস্কোর জরিপে ফ্রান্সের ল্যুভর মিউজিয়াম পৃথিবীর সবচাইতে জনপ্রিয় জাদুঘরগুলির একটি।
ফরাসি খাবারের খ্যাতি আছে জগতজোড়া। বিখ্যাত পানীয় শেমপেনও তৈরি হয় এই ফ্রান্সেই। ক্যাফে আর রেস্তোরাঁর নগর যে প্যারিস তা কয়েক কদম হাঁটলেই টের পাওয়া যায়। সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে বড় এবং সম্মানিত উৎসব কান ফেস্টিভ্যালও হয়ে থাকে এই ফ্রান্সে। তাহলে ফ্রান্সের এবং ইউরোপের সেরা শহর হিসেবে কেন প্যারিসের নাম চলে আসে তা আশা করি আর ফলাও করে বলতে হবে না। এবার তাহলে এটা পরিষ্কার যে, কেন লোকেরা বলে – প্যারিস এক স্বপ্নের শহরের নাম।
Feature Image: followmewaway.com
তথ্যসূত্রসমূহ:
01. History of Paris.
02. Paris.
03. History of Paris.
04. Paris City Guide.
05. স্বপ্নের শহর প্যারিস।